তালা লাগানো হয়নি বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ, তাই ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে একটি সিংহ বের হয়ে গেছে। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সেটি বেরিয়ে যায় বলে চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৭৪ সালে মিরপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চিড়িয়াখানার ভিত্তি স্থাপন করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে এটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠার সময় এখানে প্রায় ১১ একর জায়গাজুড়ে সীমিত সংখ্যক প্রাণী ছিল। সময়ের সঙ্গে এর পরিসর প্রায় ৭৫ হেক্টরে বিস্তৃত হয় এবং প্রাণীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সিংহ চিড়িয়াখানা থেকে হারিয়ে যায়নি, চিড়িয়াখানার ভেতরেই আছে। তার গতিবিধি লক্ষ্য করে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানার ভেতরে থাকা সকল দর্শনার্থীরা বের হয়ে গেছেন। ’
সিংহটি কীভাবে বেরিয়ে গেল, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হয়তোবা তালা লাগানো হয়নি। কারণ কোথাও কোনো গ্রিল ফাঁকা বা ভাঙা এরকম কিছু নেই। তাই দরজা দিয়ে বের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এ ব্যাপারে রাতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ’ বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঁচটি সিংহ রয়েছে।
ইন্টারনেট সুত্রে জানা যায়, ঢাকা মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিনোদন ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর ইতিহাস শুরু হয় ১৯৫০ সালে, যখন ঢাকা শহরের আগারগাঁও এলাকায় একটি ছোট প্রাণীসংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে আধুনিক ও বিস্তৃত পরিসরে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় চিড়িয়াখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর ফলস্বরূপ ১৯৭৪ সালে মিরপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চিড়িয়াখানার ভিত্তি স্থাপন করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে এটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
চিড়িয়াখানার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণ, প্রাণীবৈচিত্র্য গবেষণা, শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা। প্রতিষ্ঠার সময় এখানে প্রায় ১১ একর জায়গাজুড়ে সীমিত সংখ্যক প্রাণী ছিল। সময়ের সঙ্গে এর পরিসর প্রায় ৭৫ হেক্টরে বিস্তৃত হয় এবং প্রাণীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
মিরপুর চিড়িয়াখানায় বর্তমানে স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, উভচর, পাখিসহ প্রায় শতাধিক প্রজাতির প্রাণী রাখা হয়। এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, জলহস্তী, জেব্রা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির বিরল পাখি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেমন নতুন খাঁচা, উন্নত প্রাণী পরিচর্যা ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধির কাজ। বাংলাদেশের প্রাণী সংরক্ষণ ও শিক্ষায় মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

